তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ভোরের আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে টিনের চালা উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আম, লিচু, কাঁঠাল ও বোরো ধানসহ মৌসুমি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ তীব্র ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক মিনিটের এই ঝড়েই আকচা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও দোকানের টিনের চালা উড়ে যায়। অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে এবং ফলদ গাছ উপড়ে যায়। গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান ও আমবাগান। ঝড়ে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এছাড়া আমবাগানের গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও আধাপাকা আম ঝরে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জলিল জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু ভোরের ঝড়ে তার পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “পাঁচ বিঘা ধান লাগিয়েছিলাম। সব ধান শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। বছরের সব আশা-ভরসা এই ফসলের ওপর ছিল।”
আম ব্যবসায়ী মিলন জানান, তিনি দুই বিঘা আমের বাগান লিজ নিয়েছিলেন। সকালে বাগানে গিয়ে দেখেন অধিকাংশ আম মাটিতে পড়ে আছে।
তিনি বলেন, “অনেক টাকা খরচ করে বাগান লিজ নিয়েছি। এখন গাছে আম নেই বললেই চলে। যে পরিমাণ আম ঝরে গেছে, তাতে খরচের টাকাও উঠবে কিনা জানি না।”
ঝড় থেমে যাওয়ার পর সকালে বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের ঝরে পড়া আম কুড়াতে দেখা যায়। হাতে ঝুড়ি নিয়ে আম কুড়াতে থাকা ছোট শিশু ফাহিম বলে, “অনেক আম পড়েছে, আমি কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যাব।”
স্থানীয়দের মতে, স্বল্প সময়ের এই ঝড়েই কৃষকদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। সরকারি ভাবে যতটুকু সম্ভব কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, “ভোরের আকস্মিক ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা বাড়ছে। তাই কৃষকদের সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা, কৃষি বীমা ও জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।