নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর চারঘাট থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিনের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত ঘটনায় অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীর ফেলে যাওয়া ফেনসিডিল জব্দ দেখানো হলেও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরবর্তীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো মামলা না করেই দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে রাতে পাটিয়াকান্দি সেতু এলাকায় পুলিশের একটি অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী হাসান মোটরসাইকেল ও একটি বস্তাভর্তি ফেনসিডিল ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ বোতল ফেনসিডিল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জব্দকৃত মালামাল থানায় নেওয়ার আগেই বিষয়টি জানতে পারেন বাঘা উপজেলার আড়ানি এলাকার আশিক নামে এক ব্যক্তি, যাকে স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আশিক ও ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তার মধ্যস্থতায় বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জব্দ করা মোটরসাইকেল থানায় না নিয়ে অন্যত্র রাখা হয় এবং শুধুমাত্র ফেনসিডিল থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতভর দেনদরবারের পর ২৫ মে সকালে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসানের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়া হয় এবং ৯৯ বোতল ফেনসিডিল জব্দ দেখিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজ প্রথমে অভিযানে অংশ না নেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং ফেনসিডিল উদ্ধারের বিষয়ে কিছু জানেন না। অন্যদিকে এসআই লাল মিয়াও অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে সিরাজের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা যায় এবং একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি হয়তো ‘নেগোশিয়েশন’ হয়ে থাকতে পারে, তবে কে বা কারা অর্থ গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগেও বাঘা ও চারঘাট এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে আশিকের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশিক। তিনি বলেন, অতীতে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন এবং এ ঘটনায় কোনো ধরনের মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত নন।অন্যদিকে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী হাসানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মোটরসাইকেল ও ফেনসিডিল ফেলে পালানোর ঘটনাটি সত্য নয় এবং তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
অভিযুক্ত ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিন অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল জিডিমূলে জব্দ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এছাড়া আশিকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং টাকার বিনিময়ে মামলা না দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।