নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রাজশাহীর তানোর উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এক বর্ণাঢ্য মহাসমাবেশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় হিন্দু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ঐক্য পরিষদ, তানোর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী জেলা নায়েবে আমীর মো. মইনুল হোসেন, জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম এবং তানোর উপজেলা আমীর মাওলানা মো. আলমগীর হোসেন। এছাড়া বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তানোর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দেবানন্দ বর্মনসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তানোর উপজেলা হিন্দু, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দর্শনাত দাস।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা বলেন, নিজ নিজ সমাজ থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশা সবচেয়ে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম। নেতৃত্ব ভিন্ন হতে পারে, তবে সম্প্রীতি, মানবতা ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সবাই অভিন্ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সম্মিলিত অবদানে গড়ে উঠেছে দেশ। তিনি তানোরকে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছেন।তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জাতি ও সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজস্ব নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ নিজেকে বঞ্চিত বা অবহেলিত মনে করবে না।
সমাবেশে বক্তারা সমাজে বিভেদ, ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা রোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই হবে জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। মহাসমাবেশে তানোর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন থেকে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তানোরসহ সমগ্র রাজশাহী অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।