নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোনাবিল হক বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওই দুইজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নিয়ামতপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) চাঁদ আলী রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে এবং তাদের সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তারকে (৩) গলা কেটে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) তাদেরকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে নেওয়ার পর আসামি সবুজ রানা আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর দুই আসামি শহিদুল ও শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চাঁদ আলী বলেন, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি সবুজ রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সবুজকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি শহিদুল ও তার ছেলে শাহিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাদের দুইজনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিমান্ড শুনানি নিয়ে আদালত তাদের দুইজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অপর আসামিদের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়ার জন্য তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি জানান, বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সবুজ রানা বলেন, নানা নমির উদ্দিনের কাছ থেকে বেশি জমি লিখে নেওয়ায় সবুজ ক্ষুব্দ ছিলেন। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে মামাকে নির্বংশ করার হুমকিও দিয়েছিল। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই সবুজ, শহিদুল ও শাহিন পরিকল্পনা করে তার মামা হাবিবুর, মামি পপি সুলতানা, মামাতো ভাই পারভেজ ও মামাতো বোন সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার দিন সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সবুজ তার মামা হাবিবুরের সঙ্গে গরু কিনতে উপজেলার ছাতড়া হাটে যান। গরু না কিনেই তারা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে এসে তার খালু শহিদুল ও খালাতো ভাইয়েরা মিলে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
চাঁদ আলী জানান, সোমবার রাতে মামার বাড়িতে কাঁঠালের তরকারি দিয়ে ভাত খান সবুজ। এ সময় শাহিনও বাড়িতে অন্যদের অগোচরে বাড়িতে ঢুকে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকেন। সবুজ ভাত খেয়ে চলে যায়। রাতের খাবার বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দেন। এ সময় শহিদুল ও সবুজসহ ছয়জন বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমেই সবুজ তার নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেন। পরে তারা একে একে হাবিবুরের কক্ষে ঢুকে। সবুজ ও শহিদুল হাবিবুরকে চেপে ধরে এবং শাহিন ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। মামি পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে অন্য ঘরে শুয়ে ছিলেন। শব্দ পেয়ে পপি ঘর থেকে বের হলে শহিদুল পেছন থেকে হাঁসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আঘাত পেয়ে পপি পড়ে গেলে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন সবুজ। পরে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশু পারভেজ ও তার বোন সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে শাহিন ও সবুজ।