নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর: নাটোরের লালপুর উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উত্তেজিতরা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের আগ মুহূর্তে উপজেলার গোধড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ নম্বর কিদমচিলান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী দোহা ও মজনু গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার গুনাইহাটি গ্রামের রাশেদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে গুনাইহাটি এলাকার লোকজনও ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার সময় বিক্ষুব্ধরা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। একই সময় দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ি, বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এবং বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে বড়াইগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম এবং লালপুর থানার ওসি (তদন্ত) এস এম রিরাজুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গুরুতর আহত রাশেদুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে