নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোর ও রাজশাহীর পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার বাস চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বেলা ৩টা পর্যন্তও বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, নাটোরের ওপর দিয়ে রাজশাহীর বাস চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে নাটোরের বাস মালিকরাও পাল্টা অভিযোগ করে জানান, তাদের বাস রাজশাহীতে গেলে আটকে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ‘আন্দান পরিবহন’ নামের একটি বাস নির্ধারিত নিয়ম বা চেইন না মেনে চলাচল করছে। যখন-তখন রংপুর-রাজশাহী রুটে বাসটি চলাচল করায় দুই জেলার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি জানান, রাজশাহীর একটি বাস প্রায় ৪৫ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চলাচল শুরু করে এবং আট দিন রংপুর-রাজশাহী রুটে চলাচল করে। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বাস চললে যাত্রী সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যেই ‘আন্দান’ পরিবহন নিয়ম ভেঙে চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিষেধ করা হলেও তারা তা মানছে না। এমনকি নাটোরে রাজশাহীর বাস আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, সকালে রাজশাহীতে প্রবেশ করা বাসগুলো বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে নাটোর থেকে রাজশাহীর বাস ছাড়তে দেওয়া হয়নি। ঢাকাগামী বাসের কাউন্টারও নাটোরে বন্ধ করে দেওয়ায় রাজশাহী থেকেও ঢাকার বাস ছাড়তে পারছে না।
রাজশাহী থেকে নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঢাকা ও খুলনা অভিমুখে বাস চলাচল করে। এসব রুটের বাসই সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে কখন পরিস্থিতির সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুপুরে রাজশাহী নগরের শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা বাস না পেয়ে বিকল্প উপায়ে অন্তত নাটোর পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাস বন্ধ থাকায় তিনি আগে কোনোভাবে নাটোর পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষ্মণ বাস আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তারা কোনো বাস আটকাননি; বরং সকালে রাজশাহীতেই তাদের সাত-আটটি বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখান থেকেই বাস ছাড়া হচ্ছে না। তিনি আরও দাবি করেন, আগের দিন একটি বিষয় নিয়ে দুই জেলার মধ্যে বিরোধ তৈরি হলেও তা সমাধান হয়েছিল। কিন্তু ছোট জেলা হওয়ায় রাজশাহী তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা কবে সমাধান হবে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।