নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) কার্যালয়ে টেন্ডার বাক্সকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি টেন্ডার বাক্স সরিয়ে নিয়ে ভেতরের দরপত্র পর্যালোচনা করেন। পরে বাক্সটি আবার ফেরত দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরডিএ সূত্র জানায়, পুরনো ও অচল মালামাল বিক্রির জন্য সম্প্রতি একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে কয়েকটি শৌচাগারের পুরনো বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ২৭টি গাছ, ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি, একটি লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। শেষ দিনে নিরাপত্তার জন্য কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী দরপত্র জমা দিতে এসে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, আগে জমা দেওয়া দরপত্র বাতিল করে শুধুমাত্র ওই দিনের দরপত্র গ্রহণ করতে হবে। তবে আরডিএ কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী আগের দরপত্র গ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেও তারা তা মানেননি।
একপর্যায়ে ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ধলু টেন্ডার বাক্সটি নিয়ে কার্যালয়ের করিডোরে যান এবং সেখানে বাক্স খুলে আগের দরপত্রগুলো বের করে দেখা হয়। পরে বাক্সটি পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পুরো সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো বাধা দেননি। এ সময় ঘটনাস্থলে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা যায়।পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বাক্সটি খোলা হলে চারটি গ্রুপের বিপরীতে মোট নয়টি দরপত্র পাওয়া যায়। প্রায় আড়াই লাখ টাকার এসব মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন। নগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কিনা তা তিনি নিশ্চিত নন; বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। নিয়ম মেনে দরপত্র গ্রহণ করা হলেও জোরপূর্বক বাক্স খুলে আগের দরপত্র বের করা হয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে পুনরায় রাখা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে ফেরত দিয়েছেন। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ মামলা করলে বা না করলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।