নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: অসচ্ছল নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করে তুলতে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০ জন নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ শেষে রোববার সকাল ১১টায় বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াজেদ। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল। তিনি বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এ উদ্যোগ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ-এর পরিচালক জাকারিয়া জামান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, বিএডিসি বগুড়ার সহকারী পরিচালক মাসুদ পারভেজ, বগুড়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপি নেতা রাজু হোসেন পাইকারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সেলাই মেশিন প্রদান করায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে তারা নিজেরা আয় করতে পারার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন নিউজটোয়েন্টিফোর বগুড়ার রিপোর্টার আব্দুস সালাম বাবু। উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. মামুন, সমকাল উত্তরাঞ্চল প্রতিবেদক লিমন বাশার, কালের কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার টিএম মামুন, নিজস্ব প্রতিবেদক আতিকুর রহমান, ফটোসাংবাদিক ঠান্ডা আজাদ, আল আমিন, মামুনুর রশিদ, বাংলা নিউজ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জুয়েলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক ও শুভসংঘের সংগঠকরা।
সেলাই মেশিন পেয়ে উপকারভোগী নারীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচেও সহায়তা করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
অনুষ্ঠানে জাকারিয়া জামান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় সারা দেশে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানও যদি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে নারী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার সমন্বয়ে এসব নারী ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।