নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে ১০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে রাসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ। রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগরীর প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ড্রেন থেকে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে কাদামাটি অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মাধ্যমে ছোট ড্রেনসমূহও পরিষ্কার করা হচ্ছে।
চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রেলগেট মোড় থেকে বাইপাস ব্রিজ হয়ে সিটি হাট পর্যন্ত বড় এক্সকাভেটর দিয়ে প্রাইমারি ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। এছাড়া আপেল ডেকোরেটর থেকে ডিঙ্গাডোবা রেলক্রসিং, ঝাউতলা মোড় থেকে ভাটাপাড়া হয়ে মহিষবাথান কবরস্থান, মথুরডাঙ্গা থেকে বাইপাস ব্রিজ এবং নেসকোর পেছন থেকে হরিজন পল্লী পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।
রাসিক সূত্র জানায়, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ছোট ও মাঝারি ড্রেন পরিষ্কারে শ্রমিকরা কাজ করছেন। পাশাপাশি দড়িখরবোনা থেকে বর্ণালী, সাহেববাজার বড় মসজিদ থেকে তুলাপট্টি এবং রাণীবাজার টাইলসপট্টিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে দিন-রাত মাঠে থেকে সরেজমিনে কার্যক্রম তদারকি করছেন রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও প্রদান করছেন।রাসিক প্রশাসক বলেন, “নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রেখে জলাবদ্ধতা কমানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছি। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক ভবন মালিক ড্রেনের ওপর স্থায়ী ঢালাই করে ড্রেনের পকেট বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে, ড্রেনের ওপর স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ থেকে বিরত থাকুন।”
রাসিকের এই আগাম উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন নগরবাসী। তাদের মতে, দীর্ঘদিন অপরিষ্কার থাকা অনেক ড্রেন এবার আগেভাগেই পরিষ্কার করা হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।নগরীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর ড্রেন পরিষ্কারে এমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। আগাম প্রস্তুতির কারণে এবার নগরবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছি।”অপর বাসিন্দা শরিফুল হাসান বলেন, “রাসিকের কর্মীদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। নাগরিক সেবায় এই আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”