আশিকুর রহমান, রাজশাহী: রাজশাহীর বিস্তীর্ণ আমবাগানে এখন দুলছে নানা জাতের বাহারি আম। গাছে গাছে ঝুলে থাকা সবুজ আমে ভরে উঠেছে পুরো অঞ্চল। আর মাত্র এক মাসের মধ্যেই বাজারে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু পাকা আম—এমনটাই আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা জুড়ে আমবাগানগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তারা নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, কীটনাশক প্রয়োগ এবং ফল ঝরে পড়া রোধে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিরা জানান, গাছে গাছে আমের ভালো মুকুল ও ফলন হওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আমের আকার ও গুণগত মান ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে মৌসুমের শেষ দিকে ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে বাজারে আসতে শুরু করবে গোপালভোগ ও হিমসাগর জাতের আগাম আম। এরপর পর্যায়ক্রমে জুন মাসে ল্যাংড়া এবং মৌসুমের শেষ দিকে ফজলি ও আম্রপালি বাজারে আসবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো এবারও রাজশাহীর আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি ভালো দাম পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।