নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার হাটোইর গ্রামে তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর সংঘবদ্ধ একটি দল এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় হত্যা মামলার আসামি সৈয়ব আলী, সাজেদুর রহমান, কামরান হোসেন, স্বাধীন, সুমন, সুজাত, সজিব ও হামিদুল ইসলাম আকুর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। এছাড়া ইমরান হোসেন ও আমিনুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জুমার নামাজ শেষে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল প্রথমে প্রধান আসামি সৈয়ব আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তার পরিবারের সদস্যদের একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মান্দা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত লাইলি বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী আমিনুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি হলেও ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং মামলার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। এরপরও তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রাণভয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মরক্ষা করেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় নিহত তৈয়বুর রহমানের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে শিশুদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে আব্দুল মোমিন ও প্রতিবেশী ইমরান হোসেনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে গত ৮ জুন সকালে ইমরান হোসেন ও তার সহযোগীরা আব্দুল মোমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে চারজন আহত হন।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন পুনরায় হামলা চালালে তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান। এ সময় তিনি গুরুতর মারধরের শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ পর্যন্ত সৈয়ব আলী, কামরান, স্বাধীন ও সুরভী বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “তৈয়বুর রহমান হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কোনো ঘটনার প্রতিবাদে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”