নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর মতিহার থানা এলাকার ধরমপুরে ঋতু খাতুন রিয়া (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে পরিবার।
নিহতের মা শিলা বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবি, দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত রিয়া পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও আট মাস বয়সী এক পুত্রসন্তানের জননী ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে মতিহার থানার ডাঁশমারী মধ্যপাড়া এলাকার ঋতু খাতুন রিয়ার সঙ্গে ধরমপুর সোরাফানের মোড় এলাকার মিজানুর রহমান মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক ও জুয়ার আসক্তিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময় রিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং বাবার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রির জন্য হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে রাতে রিয়া তার মাকে ফোন করেছিলেন। তবে ফোন রিসিভ করতে না পারায় পরে আর যোগাযোগ হয়নি। রাতেই স্বামীর পরিবারের লোকজন রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে দাবি করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বাদ আসর স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ১২ মে রাত থেকে ১৩ মে ভোরের মধ্যে স্বামী ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে রিয়াকে মারধর করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গোলাম কবির জানান, পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আলমাসকে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।