নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এবার জেলায় সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ হাজার বেশি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে ঈদকে ঘিরে পশুর সংকটের আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজশাহীতে মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু।
প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪২৫টি মহিষ, ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি ছাগল এবং ৪৩ হাজার ৪০৬টি ভেড়া। সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ছাগল। এরপর রয়েছে গরু, ভেড়া ও মহিষ।
একসময় সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলের কোরবানির পশুর হাটগুলো ভারতীয় গরুর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল ছিল। তবে গত কয়েক বছরে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে ভারতীয় গরুর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় খামারিদের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িভিত্তিক ও বাণিজ্যিকভাবে পশু পালন বৃদ্ধি পেয়েছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই তারা পশু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি আবদুল কাদের বলেন, “এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু পালন করেছি। খরচ বেড়েছে, তাই বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছি।”খামারি বাপ্পি ইসলাম বলেন, “ছয় মাস আগে থেকেই কোরবানির হাটকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করেছি। এবার আমার ছয়টি ষাঁড় গরু রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় দুশ্চিন্তা ছিল, তবে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।” মোহনপুর উপজেলার খামারি সেলিনা বেগম বলেন, “ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়াও পালন করেছি। কোরবানির জন্য এখন সেগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
দুর্গাপুর উপজেলার খামারি রাফিউল বলেন, “দেশীয় খামারিদের স্বার্থে ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ রাখা জরুরি। তাহলে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন।”প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার পশুর উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান কর্মসূচি এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ফলে বাজারে সুস্থ ও নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, “গত কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবারও চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু রয়েছে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”