নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহীসহ দেশের পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মহানগর আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদকে প্রার্থী করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন, যা পরদিন তফসিল ঘোষণার দিনে কার্যকর হয়। তিনি ঢাকা-১০ আসনে গণসংযোগ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, খুব শিগগিরই বাকি সিটি কর্পোরেশনসহ সারাদেশের উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয়ভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে প্রশাসনসহ প্রভাবশালী পক্ষগুলো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ পায়। প্রতীকবিহীন নির্বাচন হলে তুলনামূলকভাবে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা, উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত কোনো প্রশাসক নিয়োগ না দেওয়া, প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং সরকার, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা। এছাড়া দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন ছাড়া সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।