নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ছয়টিতে ইতিমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এখনও যেসব সিটিতে প্রশাসক দেওয়া হয়নি, তার মধ্যে অন্যতম রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। রাজশাহীতে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে তৎপরতা। মহানগরের অন্তত পাঁচজন বিএনপি নেতা প্রশাসক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। যারা ইতোমধ্যে দলের হাই কমান্ডে তদবির।
মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র। তিনি ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে জয়ী হন। তবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে কারাবন্দী জীবন কাটাতে হয় তাকে। উচ্চ আদালতের রায়ও অনুকূলে আসে, তবুও চেয়ারে আর ফেরার সুযোগ পাননি। তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মামুন অর রশিদ- মহানগর বিএনপির সভাপতি। রাজনৈতিক কারণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা বিএনপির এই ত্যাগী নেতার অবস্থানও শক্ত। তিনি বলছেন, ‘‘দল যদি যোগ্য মনে করে, দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।’’
আবুল কালাম আজাদ সুইট- রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি। একসময় রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন, পরে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসক পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই তরুণ নেতা। তবে তিনি সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সম্মান দেওয়াকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছেন। ওয়ালিউল হক রানা- মহানগর বিএনপির সহসভাপতি। সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মেয়র পদে মনোনয়ন বা প্রশাসক- দুই ক্ষেত্রেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মাহফুজুর রহমান রিটন- রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, জনসেবার লক্ষ্যে রাজনীতি করেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তালিকাভুক্ত নেতারা বিভিন্নভাবে পদে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ রাজশাহী থেকে হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলীয় সূত্রের মতে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির কেউ একজন প্রশাসক পাবে। ফলে মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নেতারা প্রশাসক পদেও সক্রিয় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।