নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীর ছয়জন নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন রাজশাহীর অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী। তিনি জানান, শনিবার ফরম জমা দেবেন।
এছাড়াও সাবেক নারী এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহান পান্না, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রত্না খাতুন এবং চারঘাট মহিলা দল নেত্রী নাজমা আক্তার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং মহিলা দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকিও শনিবার ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। ফলে সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার দৌড়ে মোট ছয় নেত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন।
তাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শামসাদ বেগম মিতালী। তিনি বর্তমানে রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দীর্ঘদিনের রাজপথের রাজনীতি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং দুঃসময়ে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে কারাবরণ করায় ‘কারা নির্যাতিত নেত্রী’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
পারিবারিকভাবেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিতালী। তার বাবা আব্দুল হামিদ মরু বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকদের একজন এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি, যা সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার ইতিহাস—এই তিন বিবেচনায় মনোনয়ন দৌড়ে শামসাদ বেগম মিতালী এগিয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি, নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। আমার ত্যাগ ও অবদান দল মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।”