স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষ হয়ে এলাকায় তান্ডব চালানোর পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ তার বাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সশস্ত্র হামলার পর থেকে এলাকায় এখনো আতঙ্ক কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেপ্তার করছেনা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, গুলি ও আহতের ঘটনায় রুপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে আহত রিপন মিয়া বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, রূপগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার মূল হোতা রফিকুল ইসলামকে বাদ দিয়ে মামলাটি নেওয়া হয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রফিক বাহিনীর প্রধান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার দাবি জানান তারা। গত ১২ দিন আগে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সাইট দেওয়া নিয়ে রুপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন দুই নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিন হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খার তর্ক বিতর্ক ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন খা বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিন হোসেনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরে স্থানীয় ভাবে গত ১১ মে সোমবার এ নিয়ে বরুনা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আমিন হোসেনের পক্ষ হয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। ওই বিচারে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট গুলজার হোসেন, হাজী সেলিমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বিচার সালিশে আওয়ামী লীগ নেতা আমিন হোসেনের পক্ষ হয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিচার চলাকালীন সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খা ও তার লোকজনকে উদ্দেশ্য করে আ'লীগ নেতা আমিন হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রফিকুল ইসলামের সন্ত্রাসী বাহিনী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ।
একপর্যায়ে আমির হোসেন ও রফিক বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পিস্তল উঁচিয়ে, রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বিচার সালিশে থাকা উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি ভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকেন। এ সময় রফিক বাহিনী নিরীহ এলাকাবাসীর বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে দুই পক্ষের মাঝে প্রায় চার ঘন্টা সংঘর্ষ চলে। সন্ত্রাসীরা কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির একটি ক্লাব ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে তারা বরুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জয়নাল আবেদীন ও নবীর হোসেনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ টাকা লুটে নেয় । রফিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্কে সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রফিকুল ইসলামের সেল্টারে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিব মাদক ব্যবসা করে আসছে। ওই সংঘর্ষে রাকিবের নেতৃত্বে অস্ত্র যোগান দেওয়া হয়। এলাকাবাসী জানায়, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো হয়নি। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো আতঙ্ক কাটেনি।বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ ধরনের তান্ডব চালানোয় এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ঘটনার তিনদিন পার হলেও রফিক বাহিনীর অস্ত্রধারে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন খা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের উপরে হামলা চালিয়ে গুলি বর্ষন করেছে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আহত ঘটনা ঘটিয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে জানিতো অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার চেষ্টা চলছে। অতি দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।