
নাটোর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে নাটোর থেকে বিএনপির পাঁচ নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন- সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, সাবেক এমপি সুফিয়া হক, অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার, মহুয়া নূর কচি ও সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সংসদে বিএনপির ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। এসব আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে নাটোরের আলোচনায় থাকা নেত্রীরা দলীয় উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
নাটোর-নওগাঁ অঞ্চলের সংরক্ষিত আসনের আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন ছবি। তিনি নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। তার অনুসারীদের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি মনোনয়ন পেলে এলাকার উন্নয়ন ও দলীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও সাবেক এমপি সুফিয়া হকও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি এবার দলীয় মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছেন।
অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি। ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনিও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
বড়াইগ্রাম উপজেলার মহুয়া নূর কচি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর সহধর্মিণী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) এলাকার সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ তাকে সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে নাটোর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনা-জল্পনা বাড়ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিতই থাকছে।
