
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: নির্মাণাধীন পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১৯ মে দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তাররা হলেন পাবনা পৌর সদরের সাধুপাড়া ঝুটপট্টি এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মাসুদ রানা ওরফে কিলার মাসুদ (৩৫), একই এলাকার মৃত রুস্তম আলীর ছেলে সজল আলী (৩২) এবং মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওরফে নকশাল ইসমাইল (৩৫)। শুক্রবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রেজিনূর রহমান। পুলিশ জানায়, হেমায়েতপুরে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলছে, যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি কাজের সাইটে গিয়ে অভিযুক্তরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার রফিজ উদ্দিনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা না পেয়ে ১৯ মে দুপুরে তারা সহযোগীদের নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। বাধা দিলে নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর ও ইমরানকে মারধর করা হয়। এ সময় অফিসের ড্রয়ার থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে অফিসের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাজিন কনস্ট্রাকশনের পাবনা অফিসের ম্যানেজার রকিবুর রহমান বাদী হয়ে ২০ মে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ এর নির্দেশে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।