
নিজস্ব প্রতিবেদক: হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে রাজশাহীতে আলু বেচাকেনা বন্ধ করে দিয়েছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে জেলার বিভিন্ন হিমাগারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিভিন্ন হিমাগার ঘুরে দেখা যায়, আলু বের করা, লোড-আনলোড কিংবা কেনাবেচার কোনো কার্যক্রম চলছে না। সাধারণ সময়ে যেখানে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য থাকে, সেখানে আন্দোলনের কারণে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তাদের মতে, অতিরিক্ত ভাড়া কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও পড়বে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, একটি বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রায় ১০০ টাকা হলেও কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪৭৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।
তিনি জানান, গত ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ায় আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমিতির নেতাদের দাবি, রাজশাহীর ৩৬টি হিমাগার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার বস্তা আলু বাজারে সরবরাহ করা হয়। আন্দোলনের কারণে সেই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে তারা জানিয়েছেন।
আলুচাষি হারুন বলেন, হিমাগার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তাই যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজশাহীর আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আউলিয়া রাজিব ওয়াহিদ বলেন, বর্তমান ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মার্কেটিং অফিসার সানোয়ার হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে সরকার এখনো আলুর মূল্য নির্ধারণ করেনি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। বাজার অর্থনীতিতে বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ নয়।
এদিকে দীর্ঘ সময় আলু সরবরাহ বন্ধ থাকলে বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।