প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 15, 2026 ইং
কুষ্টিয়ায় জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ, এমপির গাড়ি ভাঙচুর; আহত অন্তত ১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া শহরে জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংসদ সদস্য আমির হামজা ‘গণঅধিকার পরিষদ দুইজনের দল’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখা। দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে বিকেল ৫টা থেকে নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় এমপির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আমির হামজা অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের হাতে হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ছিল। ইটের আঘাতে তাঁর চাচার পা কেটে গেছে এবং তিনিও কপালে আঘাত পেয়েছেন। তাঁর দলের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আমির হামজা আরও বলেন, তিনি হাসপাতালে যাচ্ছেন এবং সেখান থেকে ফিরে এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলা করবেন। মামলায় খালেককে এক নম্বর ও তৌকিরকে দুই নম্বর আসামি করা হবে বলেও জানান তিনি। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। একই সময় দলের সাধারণ সম্পাদকের অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে গণঅধিকার পরিষদের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তাঁর দাবি। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জানান, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
দৈনিক রাজশাহীর শীর্ষ সংবাদ |