প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 9, 2026 ইং
পবার সরকারি সার নিয়ে প্রশ্নের পাহাড়: কৃষি কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা, নাকি স্বজনপ্রীতির ছায়া?
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পবা উপজেলায় সরকারি সার বিতরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। জব্দ করা সার ফেরত নেওয়ার চেষ্টা, কাগজে এক ব্যক্তির নামে ডিলারশিপ থাকলেও বাস্তবে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে ডিলার পয়েন্ট পরিচালনা এবং সরকারি সার বিক্রির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুরো ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তাদের নজরদারি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি পুলিশের সহযোগিতায় পবার একটি কীটনাশকের দোকান থেকে সার জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী লাকির প্রতিষ্ঠান বাদশা এন্টারপ্রাইজ থেকে সার জব্দের পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কীটনাশক ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, জব্দ করা সারগুলো ফেরত নেওয়ার জন্য লাকি সেখানে এসেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাও সার ফেরত নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। কাগজে এক ডিলার, পরিচালনায় অন্য ব্যবসায়ী! পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নে মেসার্স জনতা হার্ডওয়ার-এর স্বত্বাধিকারী মোছাম্মৎ দৌলতুন্নেছা কাগজে-কলমে একজন বিসিআইসি সার পরিবেশক। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টটির সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবে পরিচালনা করছেন আব্দুর রাজ্জাক নামে অন্য এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাক একসময় নিজেও সার পরিবেশক ছিলেন। তাঁর নিয়োগ করা খলিলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বর্তমানে ওই ডিলার পয়েন্টে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খলিলুর রহমান নগরীর বারো রাস্তা মোড় এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানান। এতে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি সার ডিলারশিপের কাগজে যার নাম, বাস্তবে যদি অন্য কেউ ডিলার পয়েন্ট পরিচালনা করেন, তাহলে এর অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্ব কার? কৃষকের সার, অথচ নিয়ন্ত্রণে অন্যরা? স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মূল পরিবেশক সরাসরি ডিলার পয়েন্ট পরিচালনা না করায় সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে কিছু ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী লাভবান হলেও প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ডিলার পয়েন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি নিয়ে। সরকারি সার কোথায় যাচ্ছে, কার মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে, জব্দের পর সার ফেরত নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হলো এবং কাগজে-কলমে পরিবেশক ও বাস্তব পরিচালকের মধ্যে এমন পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর চান স্থানীয় কৃষকরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডিলারশিপের কাগজপত্র, সার উত্তোলন-বিক্রির হিসাব এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
দৈনিক রাজশাহীর শীর্ষ সংবাদ |