
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে এক স্কুলছাত্রকে সন্দেহজনকভাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক কনস্টেবলের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিশুর নাম রিয়ান হোসেন তাহা (১১)। সে নগরের একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা সাখাওয়াত হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাহা কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নগরের সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে একটি অটোরিকশায় ওঠে। পরে লক্ষ্মীপুর মোড়ে পৌঁছালে এক ব্যক্তি তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আটক ব্যক্তি শ্রী বাবুল (৪৮) রামেক ক্যাম্পাস এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সুইপার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক কনস্টেবল হাবিবুর রহমান হাবিব ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে করেন। তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে বাবুল একবার তাকে নিজের ভাই এবং পরে ছেলে বলে দাবি করেন। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে ট্রাফিক পুলিশ তাকে আটক করে ট্রাফিক বক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে শিশুটির কাছ থেকে তার বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ছেলেকে নিয়ে যান।
সন্ধ্যায় শিশুটিকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তার বাবা। সেখানে চিকিৎসক তাকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণে রাখেন।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, অটোরিকশায় বসা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ছেলের কানের কাছে হাত নিয়েছিলেন। এরপর থেকেই শিশুটি তার কথামতো চলছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার সন্দেহ, কোনোভাবে শিশুটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেননি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। শিশুর বাবা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, বাবুল পেশায় সুইপার এবং এর আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন। কী উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।