
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় গভীর রাতে উচ্চশব্দে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও একদল তরুণের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রিমা থানার কৈচুয়াতৈল এলাকার বাসিন্দা শাহীন-এর ছেলে অনিক কেষ্টগঞ্জ বাজার এলাকায় বেপরোয়া ও উচ্চশব্দে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এর কিছুক্ষণ পর অনিক তার সহযোগী রেদওয়ান, নাহিদসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে ফিরে এসে স্থানীয় সাব্বির ও সোহেলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অনিক ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, এতে মোটরসাইকেলগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অভিযুক্ত অনিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
সংঘর্ষে অনিকের দুই সহযোগীসহ স্থানীয় পাঁচজন আহত হন। আহতরা হলেন—মো. কামাল উদ্দিন (৬০), মো. মুস্তাকিম হোসেন (৪০), রাজা আলম (২২), জাহিদ হোসেন (২৩) ও সিয়াম হোসেন (২০)। অপরদিকে আহত অনিকের সহযোগীরা হলেন রেদওয়ান (২২) ও নাহিদ হোসেন (২৬)।
ঘটনার খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং পুড়ে যাওয়া চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে পুলিশ অনিকের আহত দুই সহযোগীকে আটক করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে অনিকের দুই সহযোগী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্ত অনিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।