
নিজস্ব প্রতিবেদক
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় ঔষুধ না পেয়ে প্রতিদিনই খালি হাতে ফিরছেন শত শত রোগী। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। চিকিৎসকের পরামর্শ মিললেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ঔষুধ কিনছেন, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।
রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা সেফালী বেগম (৫৫) বলেন, “আমি গরিব মানুষ। বাইরে থেকে ঔষুধ কেনার সামর্থ্য নেই। আগে এখানে এলে কিছু ঔষুধ পেতাম। কিন্তু সাত-আট মাস ধরে কোনো ঔষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। টাকার অভাবে দোকান থেকেও কিনতে পারছি না।”
একই অভিযোগ করেন দিনমজুর রফিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বলেন, “দিনমজুরির টাকায় সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। আগে নিজের বা সন্তানদের অসুখ হলে ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে ঔষুধ পেতাম। এখন ওষুধ না থাকায় চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে গেছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জানান, প্রতিদিন অসংখ্য নারী, পুরুষ ও শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে ক্লিনিকে আসছেন। কিন্তু ঔষুধের সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া গেলেও ওষুধ দিতে না পারায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে এটি অত্যন্ত বিব্রতকর ও কষ্টের। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় আমাদের কিছু করার নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়সাল নাহিদ ঔষুধ সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “উপজেলার ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েক মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত ঔষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষ আবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।”
দীর্ঘদিনের এই সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দ্রুত ঔষুধ সরবরাহ পুনরায় চালু করা জরুরি।