
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজে নৈতিক, সামাজিক, গণতান্ত্রিক, উদার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ এবং ইতিবাচক সামাজিক চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তানের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মেলামেশা এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং কেন তার আচরণে পরিবর্তন আসছে—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নজরদারি এবং সন্তানদের সঙ্গে পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রতিটি স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং সচেতনতামূলক সভা আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, জুমার খুতবা ও অন্যান্য ধর্মীয় সমাবেশে মাদকের কুফল তুলে ধরার পাশাপাশি এলাকায় মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করে তাদের সংশোধনের জন্য সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজে তাদের কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যাবে না। পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু হলে এবং সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে মাদককে ‘না’ বললে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদক কারবারিদের ভয় না পেয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলায়েত হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বক্তব্য দেন।
এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।