
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীরের তারকাটা চুরির সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যরা। রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশের ফাউন্ড্রি শপসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার পঞ্চবটি এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান (হাবিব)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন সীমানাপ্রাচীরের কাজে ব্যবহারের জন্য ফাউন্ড্রি শপের সামনে কয়েক রিম কাটা তার সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শনিবার একটি রিম চুরির ঘটনা ঘটে। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় তারকাটা চুরির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম, আনসারের পিসি শাহীন আলম, এপিসি মিনহাজসহ অন্যান্য আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি আগের দিনের চুরির ঘটনাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূর্বে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে তিনটি হেরোইন এবং দুটি ইয়াবা-সংক্রান্ত মামলা বলে তিনি স্বীকার করেন।
রুয়েটের নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম বলেন, “চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আনসার সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় চুরি করতে এলে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় খবর দেওয়া হলে বিকেল ৪টার দিকে মতিহার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর কিবরিয়া।
সাব-ইন্সপেক্টর কিবরিয়া বলেন, “৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।