
চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফ ইউনিয়নের মিরকা মাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে ইউসুফপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্রের নেতৃত্বে গত এক সপ্তাহ ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রবিন নিজেই ফসলি জমি কেটে মাটি উত্তোলন করে তা ইটভাটা ও স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করছেন। তিনি রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের খালাতো ভাই ও ভাইরা ভাই হওয়ায় এমপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় পুকুর খননের কাজ। গভীর রাত পর্যন্ত এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনে করে তা সরানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়ক ও পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারদিকে সবুজ ধানের মাঠের মাঝখানে প্রায় আট বিঘা জমিজুড়ে খননকাজ চলছে। পুকুরের উত্তর-পশ্চিম কোণে ইতোমধ্যে খনন শেষ হয়েছে এবং সেখানে একটি এক্সকাভেটর প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা রাত হলেই আবার কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। খননস্থলের পাশেই রয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BMDA)-এর একটি ডিপ টিউবওয়েল, যা থেকে আশপাশের কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন ফলে প্রকল্পটি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ক্ষমতার দাপটে কিছু অসাধু ব্যক্তি ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করছে। লাখ লাখ টাকা আয় করছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদের জমি থাকবে না, আমরা না খেয়ে মরব। আমাদের কথা শোনার কেউ নাই।
স্থানীয় বাসিন্দা আসকান বলেন,দেশের নেতারা বলেন পুকুর খনন বন্ধ হবে, কিন্তু বাস্তবে রাত হলেই এক্সকাভেটর, ট্রাক্টর আর ট্রাকের শব্দে ঘুমাতে পারি না। সামনে এসএসসি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। সরকার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বানায়, আর মাটি কেটে সেই রাস্তা নষ্ট করা হচ্ছে।
এদিকে, বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বারবার বলে আসছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় মাদক ও অবৈধ পুকুর খননকারীদের কোনো ছাড় নেই। এমনকি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আমার নিজের ছেলে হলেও যদি এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে—না পারলে আমাকে জানাবেন, আমি নিজেই তাকে ধরে আইনের হাতে তুলে দেব।
তবে বাস্তবে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম রবিন বলেন,আমি পুকুরটি সংস্কার করছি। পুকুরের পাড়ে কিছু জায়গা আছে, সেগুলো কাটা হচ্ছে।” উপজেলা ভূমি অফিসের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন,সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি, দুই-এক দিনের মধ্যে অনুমোদন পেয়ে যাব।একই সঙ্গে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাতুল করিম মিজান বলেন,অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই অবৈধ খনন কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
