
নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে ঢুকে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি আমানউল্লাহ আমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও বিজ্ঞাপন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন ইউএনও সানজিদা চৌধুরী। এ সময় ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক দলবল নিয়ে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা কিছু সময় অপেক্ষার অনুরোধ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু উত্তোলন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমানের ওপর চড়াও হন বিএনপি নেতা ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, তারা তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং গালিগালাজ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউএনও থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে। পরে তাকে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় উপস্থিত ক্ষেতলাল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর সঙ্গে মতবিনিময় চলাকালে হঠাৎ করে বিএনপি নেতা কক্ষে ঢুকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে আমানের ওপর হামলা হয়।
আহত সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমান অভিযোগ করে বলেন, এর আগে “সরকারি পুকুরের মাটি বিক্রি করলেন বিএনপি নেতা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার মোবাইল ফোন, আইডি কার্ড, ওয়ালেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে কিছু মালামাল উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেখানে কেবল কথাকাটাকাটি হয়েছে, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি তিনি নিজেই শান্ত করেন।
ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান বলেন, ইউএনওর কক্ষে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও সানজিদা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ক্ষেতলাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
কালাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাফিউৎ জামান তালুকদার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
