
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আমের রাজধানীখ্যাত সাপাহার উপজেলার আম বাজারে ওজন নিয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে বাগান মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে স্থানীয় আড়ৎদাররা বাগান মালিকদের কাছ থেকে ৫২ কেজিকে এক মন ধরে আম ক্রয় করলেও বিক্রির সময় ৪০ কেজিকে এক মন হিসেবেই বিক্রি করছেন। এতে আম চাষি ও বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় বাগান মালিকদের দাবি, প্রকাশ্যে এক দেশে দুই ধরনের ওজন পদ্ধতি চালু থাকলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, সাপাহার আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আড়ালে দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাদের নির্ধারিত দাম ও ওজনের বাইরে লেনদেন করার সুযোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাষিরা।এ বিষয়ে সাপাহার আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি কার্তিক সাহা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হোসেন রিফাতের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
পরে সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত মুঠোফোনে বলেন, “বাগান মালিক ও চাষিরা স্বেচ্ছায় এবং সন্তুষ্ট হয়েই ৫২ কেজিতে এক মন হিসেবে আম বিক্রি করেন।” তিনি আরও দাবি করেন, আম একটি পচনশীল কৃষিপণ্য হওয়ায় এ ধরনের লেনদেনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অবগত রয়েছে।তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাগান মালিক জানান, এ বিষয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে ভয় পান। তাদের ভাষ্য, বাজারে রিফাতের প্রভাব এতটাই বেশি যে তার সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সাহস অনেকের নেই।
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে পাশের পোরশা উপজেলার নোচনাহার বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিকে এক মন ধরে আম কেনাবেচা হচ্ছে। নোচনাহার আম আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “সরকারি নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে ৪০ কেজিতে এক মন হিসেবেই আম ক্রয় ও বিক্রয় করা হয়।”
স্থানীয়দের মতে, স্বচ্ছ ও নির্ধারিত ওজন পদ্ধতি অনুসরণ করায় নোচনাহার বাজারে বাগান মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এদিকে সাপাহারের আম বাজারে ওজন বৈষম্য ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা।