রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) নবীন শিক্ষার্থীদের নবীন-বরণ ও ক্যারিয়ার নির্দেশনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ রাজনীতিতে বেশি ব্যস্ত থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি বলেন, নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো এবং সরকারি কর্ম কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারের দাবি জানান। বর্তমান সরকার যে আন্দোলনের পর ক্ষমতায় এসেছে, সেই আন্দোলনের সনদ সংস্কার করা না হলে সরকারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও সরকারি কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সেই রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, গণভোটের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি যাতে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গণভোটের রায় না মানাকে তিনি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
গুম ও খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করা হয়েছে। গুম ও খুন কমিশনসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশও বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিযোগকারীদের মধ্যে ভয় তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আগের কাঠামোতেই দেওয়া হয়েছে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতের মতো দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ ২০২৪-পরবর্তী প্রজন্ম মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আবারও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে কোটা প্রথার কবর রচিত হয়েছে, তা নতুন করে ফিরতে দেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মু. মাহমুদুল হসান, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
Rahman Moti