ঢাকা | বঙ্গাব্দ

একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বারবার যৌন হয়রানির অভিযোগ, এবার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 6, 2026 ইং
একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বারবার যৌন হয়রানির অভিযোগ, এবার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছবির ক্যাপশন:
ad728

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীর চারঘাটে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখন উপজেলার বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তিনি ইউসুফপুর ইউনিয়নের পাশুন্ডিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। এর আগেও একাধিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিভাবকরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,ওই শিক্ষার্থী একাধিকবার বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার অভিযোগ করেছিল। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটির আগেই ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃশাহেরা খাতুনকে বিষয়টি জানায়। পরে বাড়িতে ফিরে সে তার মাকেও বিষয়টি জানায়। শিক্ষার্থীর অভিযোগ,ওই দিনও শিক্ষক তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এ সময় পাশে থাকা আরেক শিক্ষার্থী শিক্ষককে নিষেধ করলে তাকেও ধমক দেওয়া হয়।

পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমানকে অবহিত করেন। এরপর সোমবার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না।
শিক্ষকের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখনের স্ত্রী মোসাঃলাবনী আক্তারের বিরুদ্ধেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার মাকে ডেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। লাবনী আক্তার বাদুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি শিক্ষার্থী ও তার মাকে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং অশালীন ভাষায় কথা বলেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন অভিভাবককে জটলা করে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের কয়েকজন জানান,অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেবেন,এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি বলে তাঁদের ধারণা।

বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ শাহেরা খাতুন বলেন,ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ থাকায় শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। আমরাও বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোয়ার হোসেন মাখন এর আগে যে তিন বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন,সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি কারাগারেও ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে তাঁকে জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তার আগে নাওদাড়া ও বামনদিঘী বিদ্যালয়েও একই অভিযোগ ছিল ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা সরকার বলেন,সহকারী শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠায় তাঁকে এখান থেকে বদলি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবকও অভিযোগ করেছিলেন।

চারঘাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ ফাতেমা খাতুন বলেন,ঘটনাটি আমরাও জেনেছি। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই শিক্ষককে শোকজ করেছে। আমাদের একজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিষয়টির খোঁজ নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ হাতে পেলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মনোয়ার হোসেন মাখন বলেন, ছোট বাচ্চাদের আদর,সোহাগ দিয়ে পড়াশোনা করাতে হয়। আমি শিক্ষক হিসেবে তাকে স্নেহ করি, এর বাইরে কিছু না।জয়পুর বিদ্যালয়ের ঘটনার কথা বললে তিনি বলেন,সেখানে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। এখানেও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তাঁর সঙ্গে কারা ও কী কারণে ষড়যন্ত্র করছে,জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোসাঃ লাবনী আক্তার বলেন, আমি শুধু বাচ্চাটিকে ডেকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, এর বেশি কিছু করিনি।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার মাকে ভয়ভীতি বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,আমি ভয়ভীতি বা হুমকি দিয়েছি,এর কোনো ভিডিও প্রমাণ থাকলে তা প্রমাণ করুন। ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত করবেন না।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rahman Moti

কমেন্ট বক্স
দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা

দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা