নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাদুল হকের মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। মৃত্যুর আগে তাঁর ডায়েরিতে লেখা একটি ‘হলফনামা’সদৃশ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার সকালে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সাহাদুল হক গত ৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। এর প্রায় এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নিজের ডায়েরিতে তিনি একটি বক্তব্য লিখে যান। সেখানে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়া, স্ট্রোক, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে দায়ী করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডায়েরির ওই লেখা প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা বানেশ্বর বাজার এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর অপসারণ এবং সাহাদুল হকের মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী বিভিন্ন সময় সাহাদুল হককে মানসিকভাবে চাপ দিতেন। এমনকি অসুস্থ থাকা অবস্থায় ছুটি না দেওয়া এবং ছুটির দিনেও বিদ্যালয়ে আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সাহাদুল হকের স্ত্রী শারমিন আক্তারও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রধান শিক্ষকের আচরণে তাঁর স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ কারণেই মৃত্যুর আগে তিনি ডায়েরিতে ওই বক্তব্য লিখে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে শিক্ষার্থী ও পরিবারের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ডায়েরিতে লেখা বক্তব্যসহ পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
ডায়েরিতে মৃত্যুর আগে শিক্ষকের লেখা বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠেছে—সাহাদুল হকের মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল? নিরপেক্ষ তদন্তেই মিলতে পারে সেই প্রশ্নের উত্তর।
Rahman Moti