
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি ফোনালাপের আংশিক ও সম্পাদিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) “রাজশাহীর দিনকাল” নামে একটি ফেসবুক পেজসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে গোলাম মোস্তফা মামুন ও এক ব্যক্তির মধ্যকার একটি ফোনালাপের অংশবিশেষ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সম্পূর্ণ কথোপকথন প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রচার করে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুরাদ আলী নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী উম্মে হাবিবার করা একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই ফোনালাপের সূত্রপাত। অভিযোগে উম্মে হাবিবা দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় মুরাদ আলী তাকে বিয়ে করেন এবং বিয়ের কয়েক মাস পর তালাক দেন। পাশাপাশি তালাকের পর আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এ বিষয়ে গত ২৫ এপ্রিল রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন উম্মে হাবিবা। আবেদনে তিনি মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, নকল মধু ও ঘি ব্যবসা পরিচালনা এবং একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনে বিচার প্রার্থনা করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মুরাদ আলীকে তার সাবেক স্ত্রীর পাওনা অর্থ পরিশোধ এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে পুরো কথোপকথন প্রকাশ না করে শুধুমাত্র অর্থ প্রদানের প্রসঙ্গটি বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাজশাহী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন উম্মে হাবিবা। তিনি বলেন, অডিওতে আলোচিত অর্থ তার প্রাপ্য পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি মুরাদ আলীর বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, “আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কথোপকথনের অডিও সম্পাদনা করে প্রচার করছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, সম্পাদিত অডিও বা আংশিক তথ্য প্রচার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।