
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটি স্থগিত ঘোষণার পর প্রায় ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিক ফেডারেশন কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন শ্রমিকরা।
সোমবার সকালে নবগঠিত কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকদের একটি অংশ। এতে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের উদ্যোগে শ্রমিক নেতা ও বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় রাতে শ্রমিক ফেডারেশন নবগঠিত ২১ সদস্যের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঈদের পর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরই শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর রাত ৯টা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। যদিও রাতে কিছু রুটে সীমিত আকারে বাস চলাচল করেছে, তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটে স্বাভাবিকভাবে বাস চলবে বলে জানিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন।
এর আগে রোববার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ফেডারেশন রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি ও মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। তবে কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলনে নামে এবং বাস চলাচল বন্ধ রাখে।
সকালে নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, “এই কমিটির অধীনে আমরা বাস পরিচালনা করতে চাই না। এজন্য সকাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।” অন্যদিকে নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কেন্দ্রীয় ফেডারেশন কমিটি ঘোষণা করেছে। কিছু শ্রমিক কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।