
নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরে প্রতিদিন ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা থাকলেও গ্রামাঞ্চলে তা বেড়ে ৯ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়তে পারছে না তারা, পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।ঝুঁকিতে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থী জানায়, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষায় ভালো করা কঠিন হয়ে পড়বে।” অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, আবার পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
চারঘাট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আসাদুজ্জামান জানান, চারঘাটে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই বলেও তিনি জানান। কৃষি ও শিল্পে স্থবিরতা বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও ব্যবসা খাতেও। তীব্র গরমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
রাজশাহীর নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল সরকার বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ এগোয় না। কম্পিউটারে কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ লাইন চলে গেলে ডেটা হারিয়ে যায়। আইপিএসও বেশিক্ষণ টেকে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।” সাহেববাজার এলাকার ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, “ফ্রিজে রাখা দুধ, মিষ্টি ও কাঁচামাল গরমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে, ফলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী নেতা সেকেন্দার আলী বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়বে।” বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনজীবনের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
