
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর অছাত্র, সাবেক ছাত্রলীগ ও শিবির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদায়নের অভিযোগে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।
গত বুধবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক), রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ, রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। কমিটি ঘোষণার পরপরই পদপ্রাপ্ত একাধিক নেতার অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, ছাত্রত্ব ও ব্যক্তিগত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
রামেক ছাত্রদলের সহসভাপতি পদ পাওয়া মিজানুর রহমান অতীতে রামেক ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। একই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফা হানিফের বিরুদ্ধেও অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয়েছে আবু সাঈদ হাসানকে। তাকে বিবাহিত ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীদের একাংশ। তবে আবু সাঈদ হাসান দাবি করেন, বিবাহিত হওয়া কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা নয়।
সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামানুল হক হৃদয়কে নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অতীতের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বিষয়টি সামনে এনে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা। একই কলেজের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান সুইটের বিরুদ্ধে মাদক ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলার তথ্যও আলোচনায় এসেছে।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া আব্দুর রহমান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অছাত্র হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও স্থানীয় নেতাদের দাবি, তার শিক্ষাজীবন অনেক আগেই শেষ হয়েছে; তবে সংশ্লিষ্টরা তার ছাত্রত্ব থাকার দাবি করেছেন।
রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে রাজশাহী কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে শিবির-সংশ্লিষ্টতা বা সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ও সরকারি সিটি কলেজ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। সিটি কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কমিটিগুলো ঘোষণা করেছে। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিতর্কিত এসব কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ। ফলে নতুন কমিটিগুলো ঘিরে রাজশাহীর ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।