
নিজস্ব প্রতিবেদক: তীব্র তাপদাহে পুড়ছে উত্তরাঞ্চলের শহর রাজশাহী। প্রচণ্ড গরমে শুধু মানুষই নয়, প্রাণীরাও টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে বালির স্তূপ, ছায়াঘেরা স্থান কিংবা ঠান্ডা মাটিতে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীকে—যেন একটু স্বস্তির খোঁজে তাদেরও নিরন্তর সংগ্রাম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের মধ্যে পড়ে। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই তাপমাত্রা আরও বেড়ে ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে, যা তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নিতে পারে।
রাজশাহী অঞ্চলে গরমের তীব্রতা নতুন কিছু নয়। ভৌগোলিকভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলভুক্ত হওয়ায় এখানকার মাটি অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এবং তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গরম অনুভূত হয় এবং এই সময়টিতে তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে।
চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর ও পথচারীরা। একই সঙ্গে পশুপাখিরাও চরম কষ্টে দিন পার করছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কুকুরসহ গৃহহীন প্রাণীরা রাস্তার পাশে বালির উপর কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে শুয়ে শরীর ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছে।
রাজশাহী শহর একসময় ‘গ্রিন সিটি’ ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। পরিকল্পিত নগরায়ন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কারণে শহরটি তুলনামূলকভাবে বসবাসযোগ্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কমে যাওয়া জলাশয়, নগরায়নের বিস্তার এবং সবুজায়নের ঘাটতির কারণে তাপমাত্রা আরও বাড়ছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে বৃষ্টিপাত শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
চিকিৎসকরা এ সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক পরা এবং শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রচণ্ড এই তাপদাহে রাজশাহীর মানুষ ও প্রাণী—দু’পক্ষই যেন টিকে থাকার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
