
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা:
রাজশাহীর বাগমারায় ধারালো অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়াসহ আমিনুল ইসলাম নামের এক কিশোরকে জনতার হাত থেকে উদ্ধারে গিয়ে পুলিশের একটি দল অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক কিশোরটি মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাকশৈল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম গবরা আলী। স্থানীয়দের দাবি, সে ভাড়াটে হিসেবে এসে ধরা পড়ে। তার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মরিচের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে বিনোদপুর মরাকুড়ি গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি দল প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জায়গা ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করে। তারা দাবি করে, ওই জমির মালিক প্রতিপক্ষ রেজাউল করিম। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
খবর পেয়ে হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ডি এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাদাপোশাকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছে লাঠিপেটা ও অশালীন ভাষায় গালাগাল শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসী জড়ো হন এবং পুলিশের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে পুলিশ নিজেদের পরিচয় দেয়।
এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাগমারা থানার ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয় এবং আটক কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই জমিতে সাদ্দাম পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলে বিরোধ তীব্র হয়। এ নিয়ে রেজাউল আদালতে মামলা করেন এবং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, “নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছি। এখন ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টো সাধারণ মানুষকে মারধর ও গালিগালাজ করেছে।
অন্যদিকে রেজাউল করিম দাবি করেন, বাড়িটি তার মালিকানাধীন এবং সাদ্দাম জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বাড়িতে থাকার জন্য পরিচিতদের নিয়ে গিয়েছিলাম। উল্টো সাদ্দাম লোকজন জড়ো করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন।”
শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, “অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশকে বলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
এ বিষয়ে এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ নিয়ে বিরোধ ছিল। একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারে গেলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়।”
তিনি জানান, তড়িঘড়ি করে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা সাদাপোশাকে ছিলেন। এ জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
