অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনই কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য। বুধবার কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়া সদরের আরুয়াপাড়া মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছরের সন্তান শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া সদরের থানাপাড়ার আকরাম আলী (৬৪)। নিহত অপর বাংলাদেশি হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আদম আলীর ছেলে আহমেদ বাবু (৩)।
নিহত দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দেবাশীষের পারিবারিক বন্ধু ও দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান জানান, গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে চেন্নাই যান দেবাশীষ। তাঁদের সঙ্গে কুষ্টিয়ার আরও দুজন ছিলেন। সোমবার রাতে চেন্নাই থেকে বিমানে কলকাতায় গিয়ে একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা। বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
তৌহিদী হাসান বলেন, তাঁরা কলকাতার একটি হোটেলে উঠেছিলেন এবং সারাদিন ঘোরাঘুরি করেছিলেন। বুধবার দেশে ফেরার কথা থাকলেও হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানিয়েছেন, নিহত আরও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ মিশন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপ-হাইকমিশন যোগাযোগ করেছে। নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। এ ঘটনায় একটি সার্বক্ষণিক হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোনো পরিবারের পক্ষে মরদেহ দেশে ফেরত আনার খরচ বহন করা সম্ভব না হলে সরকার বিষয়টি দেখবে বলেও জানান তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বুধবার ভোররাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন আশপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই প্রথমে জানিয়েছিল, নিহত নয়জনই বাংলাদেশি। পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সেই তথ্য সংশোধন করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নয়জন নিহতের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও তিনজন বাংলাদেশি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Rahman Moti