
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি জানিয়েছেন, চলমান সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে চালু করা হবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল।
মঙ্গলবার দুপুরে রামেক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব বলেন,
“আমাদের সন্তানদের মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেসব মৃত্যু হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, আমরা তা স্বীকার করছি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড রয়েছে। ফলে একটি বেডের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৫০ জন অপেক্ষমাণ শিশুর পর সিরিয়াল আসে। এ অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার আগেই অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৫২২ জন শিশু, যার মধ্যে মারা গেছে ৩০৪ জন। মৃতদের অধিকাংশেরই আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং আইসিইউর চাহিদা বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য সচিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সাতটি ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এসব ভেন্টিলেটর আনা হয়েছে, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
এছাড়া সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয় এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সচিব আরও বলেন, “রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল আংশিকভাবে চালু হবে। প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু করা হবে এবং আগামী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্যান্য সেবা চালু করা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে টিকাদান কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, হামসহ ১০ ধরনের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এ বিষয়ে একটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি হামের নতুন কোনো ধরন রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গবেষণা চলছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।