
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দুই প্যানেলের মধ্যে দেখা গেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্বাচনে মাত্র ১৫ ভোটের ব্যবধানে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ‘খ’ প্যানেলের প্রার্থী হাসেন আলী। হরিণ প্রতীক নিয়ে তিনি ১ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ক’ প্যানেলের প্রার্থী খন্দকার মিজানুর রহমান ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৬ ভোট। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চেম্বার ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন।
নির্বাচনে ‘ক’ প্যানেল ১১টি পদে জয় পেয়েছে, আর ‘খ’ প্যানেল পেয়েছে ১০টি পদ। ‘খ’ প্যানেলে অংশ নেন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ‘ক’ প্যানেলে বিএনপিপন্থী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতপন্থী প্রার্থীরা অংশ নেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ‘ক’ প্যানেলের শামসুর রহমান শান্তন ঘুড়ি প্রতীকে ১ হাজার ১৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর সহ-সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন ‘খ’ প্যানেলের জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যিনি চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ ভোট।
পরিচালনা পর্ষদের ১৮টি পরিচালক পদের মধ্যে ১০টি পেয়েছে ‘ক’ প্যানেল এবং ৮টি পেয়েছে ‘খ’ প্যানেল। ‘ক’ প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা হলেন—রেজাউল করিম, শাহ মো. মাইনুল হোসেন শান্ত চৌধুরী, হাসিবুল আলম, ইমাম মেহেদী, আহসান হাবীব, শাকিলুর রহমান, মো. কামরুজ্জামান, রুহুল আমীন, ফরহাদ হোসেন ও মোবাশ্বের আলী।
অন্যদিকে ‘খ’ প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা হলেন—তৌহিদ হাসান, মাইনুল হক, মো. শামসুজ্জামান, তাসনিম হোসেন, গোলাম সাকলাইন, এ জে এম জান্নাতুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম ও মাহমুদ হাসান।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফ হোসেন জানান, মোট ২ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ এবং পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
