
অনলাইন ডেস্ক:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার ও তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান, কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার রাজীব বিশ্বাস, রাজবাড়ীর জহুরা অন্তি ও কাজী সাইফ, গোয়ালন্দের মর্জিনা আক্তার ও তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি, খোকসার ইস্রাফিল, কালুখালীর ফাইজ শাহানূর, তাজবিদ, বালিয়াকান্দির আরমান খান, নাজমিরা ওরফে জেসমিন, লিমা আক্তার, জোৎস্না, গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম, দিনাজপুরের নাছিমা, আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার, সোহা আক্তার, আয়েশা সিদ্দিকা, ঝিনাইদহের আরমান, আব্দুর রহমান, সাবিত হাসান (৮) এবং উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
