
নিজস্ব প্রতিবেদক: তৃণমূল পর্যায়ে স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গড়ে ওঠা রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বর্তমানে তীব্র ঔষুধ সংকটে কার্যত ধুঁকছে। গত প্রায় চার মাস ধরে প্রয়োজনীয় ঔষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জেলার অধিকাংশ ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামীণ দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।
রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ২৪৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে আগে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে জ্বর, ডায়রিয়া, হাঁচি-কাশি ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, আগে সরকারিভাবে ২৭ ধরনের ঔষুধ সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে কাগজে-কলমে ২২ ধরনের ঔষুধ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই সরবরাহও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ক্লিনিকে সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে ঔষুধ সরবরাহ করা হয়। তখন পাওয়া ঔষুধ দিয়ে দুই থেকে তিন মাস সেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও এরপর আর নতুন কোনো চালান পৌঁছেনি। রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন রোগীদের ভিড় থাকলেও প্রয়োজনীয় ঔষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল আলী বলেন, “আগে অসুস্থ হলে বেশিরভাগ ওষুধ ক্লিনিক থেকেই পাওয়া যেত। এখন প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।” মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম জানান, তাদের ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী আসেন। কিন্তু ঔষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় ঔষুধ দিতে না পারায় রোগীরা হতাশ হচ্ছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকেও। সেখানকার সিএইচসিপি জাকিয়া বলেন, “প্রায় চার মাস ধরে কোনো ওষুধ নেই। বর্তমানে মজুত পুরোপুরি শূন্য। রোগীদের শুধু প্রেসক্রিপশন দিতে পারছি, ঔষুধ দিতে পারছি না।”বাগমারা উপজেলার দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন, “উপজেলার প্রায় সব কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই অবস্থা। এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের বেশিরভাগই গরিব ও অসহায় মানুষ। ঔষুধ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু পবা, মোহনপুর বা বাগমারা নয়, রাজশাহীর প্রায় সব উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই ধরনের সংকট চলছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে। এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, “কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কয়েক মাস ধরেই ঔষুধ সরবরাহে সংকট চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যেই ঔষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
