
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা ফুলতলা এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা ওয়াকওয়েতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর ধারের ব্লক বিছানো অংশে ইতোমধ্যে অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে দোকান বা ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করা হতে পারে।
শুক্রবার সকালে ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি দেখতে পান। তারা অভিযোগ করেন, পদ্মা পাড়ের উন্মুক্ত পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের হাঁটা, নদী দেখা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, পদ্মা নদীর পাড়, ওয়াকওয়ে ও নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সেখানে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা গেছে। এর আগে নগরীর লালন মঞ্চ সংলগ্ন এলাকাতেও নদীপাড় ইজারা দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে সমালোচনার মুখে সেই কার্যক্রম বন্ধ হয় বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কাজলা ফুলতলা থেকে শুরু করে শ্যামপুর সংলগ্ন সাহাপুর টাঙ্গন বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে নবগঙ্গা আই বাঁধ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের বিভিন্ন অংশে বাড়ি, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, খড়ের ঘর এমনকি রেস্তোরাঁও নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনার অনেকগুলো নদীর সীমানা ঘেঁষে বা নদীর ভেতরের অংশে গড়ে উঠেছে।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, নদী দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট হওয়ার কারণে দেশের নদীগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তারা উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, নদী দখল ও পরিবেশ অব্যবস্থাপনাকে নদী ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পদ্মাপাড়ে নতুন কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং বিদ্যমান দখল উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
