
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে হঠাৎ করে একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও আতঙ্কজনিত নানা উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৬৫ জন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, এটি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতার ঘটনা হতে পারে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী। পরে তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কেউ অজ্ঞান হয়ে যায়, কেউ শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার সমস্যায় আক্রান্ত হয়। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক শিক্ষার্থী একই ধরনের উপসর্গে ভুগতে শুরু করে।
বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড গরমের পর বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হলেও পরে ভয় ও উদ্বেগের কারণে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাসনা রানী বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির একটি কক্ষের বেঞ্চের নিচে মুখ খোলা অবস্থায় একটি উকুননাশক স্প্রে বোতল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে কোনো গন্ধ বা রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে পড়তে পারে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসা শেষে অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এবং ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কাবেরী সাহা বলেন, অসুস্থ অবস্থায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর ছিল। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুর রহমান জানান, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, শিক্ষার্থীরা কী কারণে অসুস্থ হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমের কাছে পাওয়া কীটনাশকের বোতল থেকে কোনো গ্যাস বা রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে পড়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা এমন একটি অবস্থা, যেখানে ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপের কারণে একদল মানুষের মধ্যে একই ধরনের শারীরিক উপসর্গ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।