
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মাদক, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, সীমান্তে চোরাচালানসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে টাউন হল মিটিং আয়োজন করেছে র্যাব-৫।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন র্যাব-৫-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী, র্যাব-৫-এর মেজর মনজুরুল কবির পিয়ালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং সুধীজন।
সভায় র্যাব-৫-এর পক্ষ থেকে মাদকের অপব্যবহার, সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, যুবসমাজের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ ও প্রতিরোধ, সীমান্তে চোরাচালান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন, সামাজিক অপরাধ এবং ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক উপস্থাপনা করা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব-৫ পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে অর্জিত সাফল্যও তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশিদ বলেন, র্যাব দেশের অন্যতম দক্ষ ও আস্থাভাজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে র্যাবের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, র্যাব যে দায়িত্ব গ্রহণ করে তা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাহিনীটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য অপরাধ দমনে র্যাবের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
টাউন হল মিটিংয়ে বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই র্যাব-৫ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা র্যাব-৫-এর এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সমাজে মাদক, সাইবার অপরাধ ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।