
ক্রীড়া ডেস্ক:
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে যেসব খেলোয়াড় নিজেদের অসাধারণ নৈপুণ্য, রেকর্ড ও সাফল্যের মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাদের অন্যতম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক শুধু একজন ফুটবলারই নন, কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও অনুপ্রেরণার নাম।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন লিওনেল মেসি। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর অসাধারণ প্রতিভা ফুটে ওঠে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি স্পেনের বিখ্যাত ক্লাব বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর শুরু হয় বিশ্ব ফুটবল জয়ের এক নতুন অধ্যায়।
ব্যক্তিগত জীবনে মেসির একজনই স্ত্রী। তাঁর স্ত্রীর নাম আন্তোনেলা রোকুজ্জো। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে—থিয়াগো, মাতেও ও সিরো মেসি।
ক্লাব ক্যারিয়ারে মেসি প্রথমে বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর খেলেন এবং ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন। এরপর তিনি ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছেন। পাশাপাশি তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অর্জনের দিক থেকে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার ঈর্ষণীয়। তিনি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে ফিফা বিশ্বকাপ জেতান। এছাড়া দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্বও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি’অর জয় করেছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় অর্জন।
বার্সেলোনার হয়ে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৭টি কোপা দেল রে এবং একাধিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিরোপা জয় করেন। পিএসজির হয়ে জিতেছেন লিগ ওয়ান শিরোপা এবং ইন্টার মিয়ামির হয়েও ক্লাবটির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস, গোল করার দক্ষতা, খেলার নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে লিওনেল মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি শুধু একজন খেলোয়াড় নন, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।