
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানা এলাকায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ছিনতাইকৃত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বোয়ালিয়া থানার সপুরা গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর গ্রামের মৃত হাসানের ছেলে, বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ সকালে পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড শেষে সেন্টার ম্যানেজার তাকে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেন। পরে তিনি ওই টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতকারী লরির গতিরোধ করে। তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লরিতে থাকা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা দায়ের হলে আরএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি)-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দস্যুতার মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহমান ডাবলুর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ২৬ হাজার টাকা এবং সায়েম ওরফে মিলনের কাছ থেকে দস্যুতার সময় ব্যবহৃত একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩৩ হাজার টাকা। এছাড়া তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ডিবি হেফাজতে রয়েছে। ছিনতাইকৃত বাকি অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, মহানগরীতে অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।