
এম এস আই শরীফ, ভোলাহাট:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে পূর্ব বিরোধ এবং গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষে আসাদুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সকাল থেকে গ্রামটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত আসাদুল ইসলাম বটতলা গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই দুর্ঘটনায় আহত দেলোয়ার হোসেন স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন বলে তার পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসাদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রশিদ ও বাইসাপুকুর গ্রামের শাহীন আলী গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আব্দুর রশিদকে ঢাকায় মারধরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে শুক্রবার সকালে আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
পরবর্তীতে আহত দুজন মারা গেছেন—এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত জনতা আসাদুল ইসলাম ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। পাশাপাশি কিছু মালামাল লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা বাধার মুখে পড়েন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আগুন নিভিয়ে ফেলে।
আহতদের উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল ওয়াজিদ ফরহাদ জানান, আহত ১২ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুরুতর আহত আসাদুল ইসলামকে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারিক বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহত দুজন মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মো. হাসান তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং মামলার অগ্রগতি তদারকি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি অন্তর্ভুক্ত করায় অনেক নিরীহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে ঘটনার পর কয়েকদিন গ্রামে পুরুষশূন্য পরিবেশ বিরাজ করছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এই সংস্করণে আবেগঘন ভাষার পরিবর্তে তথ্য, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য অধিক উপযোগী।